সেভেন সিস্টার্স কী?
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের সেভেন সিস্টার্স কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
উত্তর-পূর্ব ভারতের অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম ও মেঘালয় এই
সাত পার্শ্ববর্তী রাজ্য একত্রে সেভেন সিস্টার্স নামেও পরিচিত। এই সাত রাজ্যের
মধ্যে জাতিগত ও ধর্মীয় বৈচিত্র্য
থাকা সত্ত্বেও অনেক আগে থেকেই
এরা রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক
থেকে সদৃশ।
জানুয়ারি
১৯৭২-এ ত্রিপুরার সংবাদদাতা
জ্যোতিপ্রসাদ সাইকিয়া এক বেতার টক
শো চলাকালীন নতুন রাজ্য প্রতিষ্ঠার
সময় (Land of the Seven Sisters) কথাটি ব্যবহার করেছিলেন। পরে তিনি Seven Sisters রাজ্যের
মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা ও সাধারণত্বের উপর
একটি বইয়ের সংকলন করেছিলেন। মূলত এই প্রকাশনার
জন্যই এই ডাকনাম প্রচলিত
হয়ে গেছে।
২০০৩
সালে সিকিমকে উত্তর-পূর্ব পরিষদের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছিল। সিকিম এই Seven Sisters রাজ্যগুলোর থেকে ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন
হলেও সাংস্কৃতিকভাবে সদৃশ এবং Seven Sisters রাজ্যের প্রতি
কেন্দ্রীয় সরকারের প্রদত্ত বিশেষ সুযোগসুবিধার প্রত্যাশী ছিল। তবে সিকিমকে
বলা হয় the only
brother among seven sisters
বাংলাদেশের
রাজনীতিতে ভারতের সেভেন সিস্টার্স কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
ভৌগোলিক
অবস্থানের কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো থেকে পণ্য ও
মালামাল আনার-নেওয়ার ক্ষেত্রে
বেশ বেগ পেতে হয়
ভারতকে। মাঝখানে বাংলাদেশ থাকায় দেশের অন্য অংশের সাথে
রাজ্যগুলোর পণ্য পরিবহন বেশ
বেশবহুল এবং সময়সাপেক্ষ।
সেই
কারণেই বাংলাদেশের কাছে পণ্য ট্রানজিট
সুবিধা চেয়ে আসছিলো ভারত।
কয়েক বছর আগে দু’টি রুটে পণ্য
পরিবহনের অনুমতি বা ট্রানজিট দেয়
বাংলাদেশ।
তবে
ওই চুক্তির আওতায় ভারতের মালবাহী ট্রেন বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে সরাসরি
যেতে পারে না, বরং
বাংলাদেশ সেগুলো ভারতীয় সীমান্তের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে পৌঁছে
দেয়।
কিন্তু
নতুন সমঝোতা চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ভেতর
দিয়ে রেলযোগে ভারত এখন সরাসরি
নিজেদের পণ্য ও মালামাল
পরিবহনের সুবিধা পেতো, কিন্তু সরকার পরিবর্তনের ফলে এখন
বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে রেললাইন তৈরি হবে কিনা তা সঠিক জানা যায় নি।
কিন্তু বিশ্লেষকদের
দাবি, এমন ট্রানজিট ভারতের স্বার্থ হাসিল করলেও বাংলাদেশের অর্থনীতি বিবেচনায় তেমন
সুফল আনতে পারবে না।
