কোনো দেশ ইচ্ছেমত টাকা ছাপাতে পারে না কেনো | Why Can't a Country Print Mo...

0

কোনো দেশ বেশি টাকা ছাপাতে পারে না কেন  Why Not Print More Money?

1. জার্মানি (ওয়েইমার রিপাবলিক) - ১৯২০ এর দশক

  • পরিস্থিতি: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর, যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ পরিশোধের চাপ এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে ওয়েইমার রিপাবলিক অতিরিক্ত টাকা ছাপানো শুরু করে
  • পরিণতি: এর ফলে হাইপারইনফ্লেশন দেখা দেয়। ১৯২৩ সালে, মুদ্রার মূল্য এতটাই কমে গিয়েছিল যে মানুষ টাকা দিয়ে খাবার বা অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য পুরো ব্যাগভর্তি টাকা নিয়ে যেতে হতো। এক পর্যায়ে, মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করার চেয়ে টাকার নোটগুলো দিয়ে চুলা জ্বালানো সস্তা হয়ে গিয়েছিল

2. জিম্বাবুয়ে - ২০০৭ থেকে ২০০৮

  • পরিস্থিতি: সরকারের বাজেট ঘাটতি মেটানোর জন্য এবং যুদ্ধের পর অর্থনৈতিক মন্দা কাটানোর চেষ্টা করতে জিম্বাবুয়ের সরকার অতিরিক্ত টাকা ছাপানো শুরু করে
  • পরিণতি: ২০০৮ সালের শেষের দিকে, জিম্বাবুয়ে মুদ্রার মূল্য এতটাই কমে যায় যে, এক পর্যায়ে ১০০ ট্রিলিয়ন জিম্বাবুয়ে ডলার দিয়ে মাত্র একটি পাউরুটি কেনা যেত। এর ফলে দেশটি ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতিতে পড়ে, যার ফলে সরকারকে তার মুদ্রা বাদ দিয়ে অন্য দেশের মুদ্রা গ্রহণ করতে বাধ্য হতে হয়

3. ভেনিজুয়েলা - ২০১৬ থেকে বর্তমান

  • পরিস্থিতি: ভেনিজুয়েলায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে সরকার অতিরিক্ত টাকা ছাপানো শুরু করে। এতে মুদ্রাস্ফীতি দ্রুত বেড়ে যায়
  • পরিণতি: ২০১৮ সালে ভেনিজুয়েলায় হাইপারইনফ্লেশন দেখা দেয় এবং মুদ্রার মূল্য প্রায় শূন্যের কোঠায় পৌঁছায়। এর ফলে জনগণের জীবনযাত্রার মান মারাত্মকভাবে কমে যায়, এবং দেশটিতে খাদ্য ও ঔষধ সংকট দেখা দেয়

4. হাঙ্গেরি - ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৬

  • পরিস্থিতি: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে হাঙ্গেরির অর্থনীতি প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়। যুদ্ধ পরবর্তী পুনর্গঠনের জন্য সরকার অতিরিক্ত পেঙ্গো (হাঙ্গেরির তৎকালীন মুদ্রা) ছাপাতে শুরু করে
  • পরিণতি: ১৯৪৬ সালে হাঙ্গেরিতে ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক হাইপারইনফ্লেশন দেখা দেয়। মুদ্রার মূল্য এতটাই কমে যায় যে, এক পর্যায়ে সরকারের কাছে বাজারে প্রচলিত মুদ্রার মুল্য নির্ধারণের কোনো উপায় ছিল না। দেশটিকে শেষ পর্যন্ত পেঙ্গো বাদ দিয়ে নতুন মুদ্রা (ফোরিন্ট) চালু করতে হয়

·         কোনো দেশ বেশি টাকা ছাপাতে পারে না কেন  Why Not Print More Money?

 

 

 

ধরুন, একটা দেশে সম্পদ বলতে রয়েছে দশটা আম। আর সেই দেশ বছরে ২০ টাকা প্রিন্ট করে। পরিবহন খরচ, খুচরা মূল্য পাইকারী মূল্য ইত্যাদি জটিলতা বাদ দিয়ে ধরেই নেই প্রতিটি আমের মূল্য ২ টাকা। তাহলে দেশের মোট সম্পদ আর মোট কারেন্সী ভারসাম্যপূর্ণ হল। পরের বছর ঐ দেশটি সর্বমোট ৪০ টাকা প্রিন্ট করল, কিন্তু মোট সম্পদ বলতে দশটি আমই রইল। যেহেতু দেশে নতুন কোনো সম্পদ নেই, ওই ১০টি আম কেনার জন্য বরাদ্দ হল ৪০টাকা, অর্থাৎ প্রতিটি আমের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেল। এভাবেই দেশের মোট সম্পদের তুলনায় অতিরিক্ত টাকা উৎপাদন করলে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়, টাকার দাম বা ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। একে বলে মূদ্রাস্ফীতি।

দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেলে বেশি করে টাকা ছাপিয়ে আর লাভ কি হল? তাই একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রীতিমত গবেষণা করে চাহিদা নির্ধারণ করতে হয়, সেই অনুযায়ী টাকা প্রিন্ট করতে হয়। সাধারণত একটি দেশের জিডিপির ২-৩ শতাংশ টাকা প্রিন্ট করা হয়, তবে উন্নয়নশীল দেশে এই হার আরেকটু বেশি

এই কারণেই আমরা ইচ্ছামত টাকা তৈরি করে রাতারাতি পদ্মা সেতু বানিয়ে ফেলতে পারি না। তাহলে সেই বাড়তি টাকা শ্রমিক, ইঞ্জিনিয়ার, ডিলার, সাপ্লায়ার এবং আরো অনেকের হাত ধরে প্রবেশ করবে মূলধারার অর্থনীতিতে এবং এর বারোটা বাজিয়ে দেবে

সঞ্চয়ের মূল্য কমে যাবে। আজকে ১০ টাকা দিয়ে চিপস না কিনে সেটা ব্যাংকে রাখলাম। এখন যদি দুইদিন পরে দেখি একটা চিপসের দাম ২০ টাকা, তাহলে তো সঞ্চয় ব্যাপারটা নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা হল!


Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)