Post‐flood infectious disease prevention and control | বন্যা পরবর্তী রোগ বালাই প্রতিরোধে করণীয়

0


পয়:নিষ্কাশন, রাসায়নিক পদার্থ এবং অন্যান্য আবর্জনার কারণে বন্যার পানি দূষিত হয়েছে যে কারনে, 
বন্যাপরবর্তী পানিবাহিত রোগ বাড়ছে। ফলে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড ও হেপাটাইটিসের মতো রোগের সংক্রমণের শঙ্কা বাড়ছে।
এই অবস্থা থেকে বাচতে চাইলে আমাদের কিছু পদক্ষেপ অবলম্বন করতে হবে-

১, নিরাপদ পানি পান করতে হবে-
পানি থেকে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও অন্যান্য পরজীবীর মতো ক্ষতিকারক রোগজীবাণু নির্মূল করার সর্বোৎকৃষ্ট উপায় হচ্ছে পানি ফুটানো
এর জন্য কমপক্ষে এক মিনিট থেকে সর্বোচ্চ তিন মিনিট পর্যন্ত পানি ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে ব্যবহার করা যাবে। 
ফোটানোর বিকল্প হিসেবে পানি পরিশোধন ট্যাবলেট বা পানির ফিল্টার ব্যবহার করা যেতে পারে। 
এ পদ্ধতিই সবচেয়ে কার্যকরীভাবে জীবাণু নির্মূল হয়। 
বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে বন্যার পর ডায়রিয়া বা কলেরার সংক্রমণ থেকে দূরে থাকা যায়।

২. ঘরবাড়ির মেঝে জীবাণুমুক্ত করা:অতিরিক্ত বন্যায় দূষিত পানি বাড়ির আঙিনাসহ ঘরের ভেতরে ঢুকে  রোগজীবাণু ছড়ায়। 
গ্রামের ঘরবাড়ি এবং শহরের নিচ তলার বারান্দা ও ঘরগুলো এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে। 
তাই বাড়ির চারপাশসহ ঘরের মেঝে, ফার্নিচার, দরজার হাতল এবং পানির কলগুলো জীবাণুমুক্ত করা আবশ্যক। 
এর জন্য এক গ্যালন পানিতে এক কাপ পরিমাণ ব্লিচ মিশিয়ে তৈরিকৃত দ্রবণ দিয়ে স্থানগুলো মুছতে হবে। 
পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার আগে দ্রবণটিকে কমপক্ষে ১০ মিনিটের জন্য ভালভাবে মিশতে দিতে হবে।
 এ সময় হাতে ডিস্পোজেবল গ্লাভস পরতে হবে, আর ধোয়া-মোছার সময় জানালা খুলে দিয়ে ঘরে বায়ু চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।

৩. বর্জ্য অপসারণ:নর্দমা এবং বন্যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত সামগ্রী বা ধ্বংসস্তূপের ময়লা-আবর্জনার যথাযথ নিষ্পত্তি দরকার। 
বর্জ্যের জন্য নির্দিষ্ট বিন ব্যবহার এবং তা সময়মতো অপসারণ করা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
 ধোঁয়া ছড়াতে পারে এমন পোড়া উপকরণগুলোর নিষ্পত্তির সময় যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে। 
সিটি করপোরেশনের নিয়োজিত আবর্জনা সংগ্রহকারী কর্মীরা যথাসম্ভব দ্রুত বর্জ্য অপসারণে সক্রিয় থাকছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। 
এই বিষয়ে এলাকার সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। 
কেননা অব্যবস্থাপনার শিকার হওয়া বর্জ্য হেপাটাইটিস-ই এবং গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের মতো রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটায়।

4. শুকনো খাবার, পানি ও চিকিৎসা সামগ্রী সংরক্ষণ: টিনজাত এবং শুকনো খাবারের মতো অপচনশীল খাবার বা যেগুলোর জন্য খুব 
বেশি রান্নার প্রয়োজন হয় না, এমন খাবার জমিয়ে রাখতে হবে। পানীয় ও স্যানিটেশনের প্রয়োজনে পর্যাপ্ত পানি সঞ্চয় করতে হবে। 
সঞ্চয়ের তালিকায় প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য দরকারি প্রতিটি ওষুধও রাখতে হবে।

5. বৃষ্টির পানি কাজে লাগানো: খোলা জায়গায় মুক্তভাবে পড়ন্ত বৃষ্টির পানি সরাসরি একটি পরিষ্কার পাত্রে সংগ্রহ করা যায়। 
যেখানে এই সুযোগ নেই, সেখানে পানি সংগ্রহের পর তা একটি পরিষ্কার কাপড়ের মাধ্যমে ফিল্টার করতে হবে। 
অতঃপর কমপক্ষে এক মিনিট সিদ্ধ করে যাবতীয় রোগজীবাণু মেরে ফেলতে হবে।

6. ঘরে উন্মুক্ত বায়ু চলাচল বজায় রাখা: বন্যা বা ভারি বৃষ্টিপরবর্তী সময়ে ঘরের বদ্ধ স্যাঁতসেঁতে ভাব
 দূর করতে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের পরিবেশ থাকা বাঞ্ছনীয়। বিশেষ করে দুর্বল ফুসফুস বা 
শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের এটি স্বাস্থ্য জটিলতাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। ঘরের আর্দ্রতা কমাতে বৈদ্যুতিক ফ্যান
 এবং ডিহিউমিডিফায়ারও ব্যবহার করা যায়। 
এ সময় ঘরের ভেতর দীর্ঘক্ষণ যাবৎ কোনো ভেজা কাপড় না রাখাই ভালো। 

7. টিকা ও অন্যান্য চিকিৎসাসেবা: বন্যা-আক্রান্ত এলাকাবাসীর প্রত্যেকের কলেরা, 
টাইফয়েড এবং হেপাটাইটিস-এ’র মতো পানিবাহিত রোগের লক্ষণ অবিলম্বে টেস্ট করা জরুরি। 
এ ক্ষেত্রে শিশু ও বয়স্কদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিৎ। ডাক্তারের পরামর্শ 
অনুযায়ী জরুরি টিকা ও অন্যান্য পথ্য অনুসরণের ক্ষেত্রে কোনোভাবে দেরি করা যাবে না।

ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ওআরএস) ব্যবহার: বন্যার মতো দুর্যোগের মুহূর্তে ডায়রিয়া এবং অন্যান্য অসুস্থতার 
কারণে পানি শূন্যতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এ সমস্যা নিরসণের দারুণ একটি উপায় হতে পারে ওআরএস ব্যবহার। 
এটি ডিহাইড্রেশন-সম্পর্কিত জটিলতা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর।

বন্যাপরবর্তী পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে এ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা জরুরি। 



Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)